যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কবিরোধ চলমান থাকায় গত মে মাসে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। দেশটির শুল্ক প্রশাসন জানিয়েছে, গত মাসে চীনের রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৬১০ কোটি বিলিয়ন ডলার। তবে এপ্রিলের ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। খবর আনাদোলু।
প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাসে চীনের আমদানি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। ফলে ওই মাসে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিটিতে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১০ হাজার ৩২০ কোটি ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য প্রবেশে ব্যাপক পতন। মে মাসে রফতানি পতনের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা এপ্রিলের ২১ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে আসিয়ান অঞ্চলে চীনের রফতানি মে মাসে বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যদিও তা এপ্রিলের ২০ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় কম।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীনের রফতানি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বেড়েছিল, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কবৃদ্ধির আশঙ্কায় আগাম পণ্য রফতানিই ছিল এর মূল কারণ।
গত মাসে শুল্কসংক্রান্ত অস্থিরতা প্রশমনে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে এক দফা আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এখন লন্ডনে আরেক দফা আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। চীনের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপ্রধানমন্ত্রী হি লিফিং, যিনি দেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক দেখভাল করেন।
গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে চলতি দফায় বাণিজ্য সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে চীনও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। দুই দেশের মধ্যে শুল্কবিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১৪৫ শতাংশে উন্নীত করে, মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে চীন।
এরপর গত ১০-১১ মে জেনেভায় আলোচনার পর উভয় দেশ ৯০ দিনের জন্য রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ হ্রাসে সম্মত হয়। ১৪ মে থেকে কার্যকর এ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ১৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ ও চীন আমদানি পণ্যে শুল্ক ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে।
তবে ৩০ মে দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন জেনেভা চুক্তির বেশিরভাগ শর্তই লঙ্ঘন করেছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং এর একটি সমাধান চান।